July 6, 2020

লাখ ছাড়ালো করোনা শনাক্ত

দেশে করোনা শনাক্তের ১০৩তম দিনে শনাক্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন আরও তিন হাজার ৮০৩ জন। দেশে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ৩৪৩ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৯টি এবং নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৬ হাজার ২৫৯টি। মোট নমুনা পরীক্ষা হলো পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ২৮ দিন পর ৬ এপ্রিল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়, ১৪ এপ্রিল ছাড়ায় এক হাজার। ১০ হাজার ছাড়ায় গত ৪ মে, ২০ হাজার ১৫ মে এবং পঞ্চাশ হাজার ছাড়ায় গত ২ জুন। এরপরের পঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়েছে মাত্র ১৬ দিনেই।
দেশে বর্তমানে ৫৯টি ল্যাবে (পরীক্ষাগার) করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজর ৯৭৫ জন। মোট সুস্থ হলেন ৪০ হাজার ১৬৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বুলেটিনে জানানো হয়, নতুন করে মৃত্যু হওয়া ৩৮ জনের মধ্যে পুরুষ ৩১ জন এবং নারী সাত জন। বয়স বিবেচনায় ১০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুই জন রয়েছেন। স্থান বিবেচনায়, ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ জন, রাজশাহী বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে দুই জন এবং বরিশাল, ময়মনসিংহ ও রংপুরের একজন করে রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৪ জন এবং বাড়িতে মারা গেছেন ১৪ জন।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৬৭৪ জন আর ছাড় পেয়েছেন ৪০০ জন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে গেছেন ১৭ হাজার ৮৭১ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ছয় হাজার ৮৪৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১১ হাজার ২৬ জন। দুই হাজার ৮২১ জন নতুন করে কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬২ হাজার ৭০৬ জন।
বুলেটিনের শুরুতেই কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। তিনি জানান, করোনা সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন দীর্ঘদিন। সুস্থ হয়ে ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়েছেন। দেশের করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সেই অনুযায়ী সরকারের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের উচ্চ হার কিছুকাল পরেই কমে আসতে পারে। তবে করোনা পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশি দিন স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চ হারে নাও থাকতে পারে।
অনেকের মতো তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাকে। সুস্থ হয়ে বেশ কয়েক দিন হলো অফিসে যোগদান করেছেন এবং কাজ করছেন।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। অপরপক্ষে করোনাও অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাস। এ কারণে অসতর্ক চলাফেরা ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে না চললে এ দেশে সংক্রমণের হার মোকাবিলা করা কঠিন। দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখলে কর্মহীনতা, আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হওয়া, নানা সামাজিক সমস্যা, রোগবালাই, অপুষ্টির কারণে অনেকের মৃত্যু ঘটতে পারে। সে কারণে জীবন-জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্জিত অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের কিছুকাল পরই করোনা সংক্রমণের উচ্চ হার কমে আসতে পারে। করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বৃদ্ধি করলে অনেক লুকায়িত ও মৃদু কেসও শনাক্ত হবে। সেক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা পরিবর্তন দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না। এটি দুই থেকে তিন বছর বা তার চেয়েও বেশিদিন স্থায়ী হবে। যদিও সংক্রমণের মাত্রা উচ্চ হারে নাও থাকতে পারে। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাম্যক উপলব্ধি করেন।’

%d bloggers like this: