July 4, 2020

চাটমোহর হাসপাতালে তুলকালাম কাণ্ড

পাবনার চাটমোহরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রধান সহকারী কাম হিসাব রক্ষকের মধ্যে অশ্লীল বাক্যালাপকে ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রধান সহকারী নিজেদের নির্দোষ দাবি করে পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন।
হাসপাতালের কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে মার্চ মাসের একটি প্রশিক্ষণের বিল ভাউচার তৈরির জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুয়াইবুর রহমান প্রধান সহকারী নুরুল ইসলামকে নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রধান সহকারী কয়েকদিন অতিবাহিত হলেও বিলটি তৈরি করেননি।
এর কারণ জানতে চাইলে প্রধান সহকারী বাজে আচরণ করেন। এরপর দুজনের মধ্যে শুরু হয় অশ্লীল ব্যাকালাপ। পরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেগে গিয়ে প্রধান সহকারীর টেবিলের ওপর রাখা কয়েকটির ভাউচার ছিঁড়ে ফেলে নিজ কক্ষে চলে যান।
এরপরেই প্রধান সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ ওঠে। সেসময় হাসপাতালের অন্য স্টাফরা গিয়ে দুজনকে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এদিকে ঘটনা শোনার পর হাসপাতালে ছুটে যান পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল। তাৎক্ষণিক তিনি হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বসে ঘটনার বিবরণ শোনেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রধান সহকারী নুরুল ইসলাম বলেন, মার্চ মাসে কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি। অথচ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাকে ওই বিল ভাউচার তৈরি করার কথা বলেন। বিল ভাউচার না করায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টেবিলে থাকা বেশ কিছু কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। এছাড়া আমাকে মারতে উদ্যত হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শুয়াইবুর রহমান বলেন, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার বা মারতে উদ্যত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং প্রধান সহকারী আমার অফিস কক্ষে এসে আমাকে মারতে উদ্যত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হাসপাতালের প্রতিটি স্টাফের অভিযোগ রয়েছে। মূলত অভিযোগের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতেই উনি (প্রধান সহকারী) ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল বলেন, খবর শোনার পর আমি গিয়ে বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

%d bloggers like this: