July 3, 2020

সুজানগরের চকবিলের কৃষকদের জলবদ্ধতা নিস্কাশনসহ রাস্তা নির্মানের দাবি

পাবনার সুজানগর উপজেলার শেষ প্রান্তে পশ্চিমচক বিলের ফসল আনা নেয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছে স্থানীয় কৃষকরা। বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ রাস্তার দাবী তাদের। ফসলের মাঠের আল ধরে মাথায় করে ফসল আনা নেয়া করতে হয় তাদের। দীর্ঘদিনের এই কষ্টো থেকে পরিত্রাণ চায় কৃষকরা। শুস্ক্য মৌশুমে পানির সমস্য আর বর্ষায় কচুড়ি পানাতে ছেয়ে থাকে পুরো ফসলের মাঠ। কৃষকের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেই কৃষি বিভাগের। কষ্টের কারনে অনেক কৃষক ধান চাষ না করে শুধু এক ফসল চাষ করছে তারা। আর এই কারনে অনাবাদী থাকছে ফসলের মাঠ। এই সুযোগে স্থানীয় একটি চক্র ফসলের মাঠে খনন করছে পুকুর। উপজেলার দুটি ইউনিয়ন ও ৫টি গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার কৃষকের চাষাবাদের এই ফসলি মাঠে জলাবদ্ধতা নিরসন ও খাল খননসহ সড়কের দাবি কৃষকদের।
কৃষি অঞ্চল হিসাবে বেশ পরিচিত নাম পাবনা জেলা। এই অঞ্চলের কৃষি ফসল দেশের চাহিদার অনেকাংশে পূরণ করে থোকে। এই অঞ্চলের বিল গুলোতে পেঁয়াজ, পাঠ, ধানসহ বিভিন্ন ধরনরে কৃষি ফসল ব্যপক ভাবে উৎপাদন হয়ে থাকে। উপজেলার গাজনার বিলের শেষপ্রান্তে অবস্থিত আহম্মেদপুর ও রানীনগর ইউনিয়নের মাঝে অবস্থিত এই পশ্চিম চক বিল। বিলের চারপাশে প্রায় ৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস এই ফসলের মাঠ। এই বিলের সবচাইতে বেশি জমি রয়েছে সৈয়দপুর গ্রামের মানুষদের। বর্তমানে কৃষক তাদের সমস্ত ফসল স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা দলিল উদ্দিন মিঞা দুলালের দেয়া জায়গার উপর দিয়ে ফসল আনা নেয়া করতে হচ্ছে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের কৃষকদের সমস্যার বিষয় জানতে স্বরজমিনে গিয়ে দেখতে পাওয়া যায়। প্রায় তিন কিঃমিঃ দৈঘ্য ও চার কিঃ মিঃ প্রস্থ এই বিলের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে। তিন ফসলি জমিতে এখন দুটি করে ফসল আবাদ হচ্ছে। শুকনা মৌশুমে পানির সমস্যা আর ভড়া মৌশুমে বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্ঠি হয়ে পানিবন্ধি হয়ে থাকছে ফসলের মাঠে। ফলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টিহচ্ছে অপরদিকে পানি বৃদ্ধির সময় পুরা ফসলের মাঠে কচুড়ি পানায় ভরে থাকছে। শুস্ক্য মৌশুমে কচুরী পানা সিরিয়ে অনেক কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে কৃষকদের। আর এই কারনে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। ফসল আনা নেয়ার জন্য বিলে নেই কোন যাতায়াতের ব্যবস্থা। ফসলের মাঠের আলধরে অনেক কষ্টোকরে ফসল আনতে হয় তাদের। আর সম্প্রতি একটি চক্র অসহায় কৃষকদের সুযোগ নিয়ে ফসলের মাঠে মাছ চাষের জন্য পুকুড় খনন করছে অবৈধ ভাবে। আর এই কারনে ওই অঞ্চলের কৃষকরা পরেছে চরম বিপাকে।
স্থানীয় কৃষক মোঃ আফজাল হোসেন খান বলেন, আমাদের কষ্টের শেষ নাই। অনেক কষ্ট করে ধান কেটে বাড়িতে নিতে হয়। ধান আনানেয়ার কষ্টের কারনে আমার মত অনেক কৃষক শুধু পাট চাষ করছে। বর্ষার সময় কচুরী পানার কারনে পতিত থাকছে অনেক ফসলের মাঠ। তিন ফসল উৎপাদনের এই মাঠে বর্তমানে এক থেকে দুই ফসল আবাদ করছে এই অঞ্চলের কৃষকরা।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কৃষক মোঃ দোলিল উদ্দিন মিঞা বলেন, আমাদের সৈয়দপুর গ্রামের পাশে এই বিশাল বিল অঞ্চলে প্রচুর পরিমান নানা ধরনরে ফসলের আবাদ হয়ে থাকে। এই বিল গাজনার বিলের পাশেই অবস্থিতিত। আজ থেকে বিশ বছর আগে এই বিলের পানি বের হয়ে যেতো। কিন্তু চারপাশে রাস্তা হওয়াতে বদ্ধ জায়গায় পরিনত হয়েছে এই বিল। পরিকল্পিত ভাবে বিলের মাঝ দিয়ে খাল খনন ও রাস্তা করে দিলে কৃষকদের বেশ উপকার হয়। বর্তমান সরকারের প্রধানের কাছে মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষক হিসাবে এই বিল অঞ্চলের কৃষদের বাঁচানোর দাবি করছি।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আজহার আলী বলেন, কৃষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সব সময় কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরে দেশে আর কোন ফসলের জমি পতিত রাখা যাবেনা। ওই বিল এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ঠ উপজেলার কৃষিকর্মকর্তাসহ সংসদ সদস্যর সাথে আলোচনা হয়েছে। বিলের পানি নিস্কাশনসহ কৃষিফসল আনানেয়ার জন্য একটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ভাবে অর্থ বরাদ্দ হলে বিলের কাজ করা হবে।
সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, সমস্যা সমাধানের জন্য ১১০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপনারা জানেন এই সুজানগর উপজেলার সারা বাংলাদেশের মধ্যে কৃষি ফসল বিশেষ করে পেঁয়াজ, রশুন ও পাটের জন্য বেশ সমৃদ্ধ অঞ্চল। উর্বর এই ফসলের জমিতে ধানও হয়ে থাকে বেশ ভালো। এই অঞ্চলের কৃষকদের বাহির থেকে চাউল কিনতে হয়না। চেষ্টা করছি কৃষকদের সমস্যা সমাধানের জন্য। এই অর্থ বছরে প্রকল্পটি অনুমদন হলে বিল উন্নয়নসহ শহর রক্ষার মুজিব বাঁধ সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: