July 3, 2020

পাবনায় হু হু করে বাড়ছে কোভিড রোগী: ভুমিকা নেই প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রন কমিটির

SAMSUNG CAMERA PICTURES

পাবনা জেলায় হু হু করে বাড়ছে কোভিড রোগীর সংখ্যা। পাবনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কমপ্লেক্সটি প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার কারনে সদর উপজেলার অনেক লোক স্যাম্পল দিতে এসে ফেরত যাচ্ছে। এখানে সদর উপজেলার মানুষ নমুনা প্রদান করতো। রোগটি নিয়ন্ত্রনে পাবনা জেলায় জেলা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রন ও প্রতিরোধ নামে একটি কমিটি কাগজ কলমে হলেও তার কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ফলে জেলাতে রোগীর সংখ্য বর্তমানে দুইশতাধিক ছাড়িয়েছে। পরীক্ষার অভাবে আরো অনেকেই এ ভাইরাস বহন করে প্রকাশ্যে জনসমাগমে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। পরীক্ষা সেবা অপ্রতুল থাকায় তাদের পরীক্ষা সম্ভব হয়নি বলে অনেকেই দাবী করেছে। এরই মধ্যে জেলাতে ০৯ জন কোভিড আক্রান্ত ব্যাক্তিকে জেলাতে দাফন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।
পাবনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান কোভিডে আক্রান্ত হবার পর থেকে অফিসটি তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিকল্প ডাক্তার দিয়ে অফিসটি চালু না রাখায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নমুনা দিতে এসে অফিস তালাবন্ধ দেখে ভূক্তভোগীরা জানায়, সরকারী অফিস তালাবদ্ধ রাখায় পাবনার সিভিল সার্র্জন কোন বিকল্প ব্যবস্থা না নিয়ে বরং সমর্থন করে জনগনকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। গোবিন্দা গ্রামের সাহেল আলী সহ অনেকেই অভিযোগ করেছে তারা কোভিডের কিছু উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে পারে নাই। মালঞ্চী গ্রামের গফুর আলী জানায়, পাবনা সদর হাসপাতালে নমুনা দিতে গেলে পাবনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেবার জন্য ফেরত পাঠায়, সদরে এসে অফিস তালা বন্ধ দেখে হতাশ হয়ে তার মত ফিরে যেতে হচ্ছে শত শত ব্যাক্তিকে।
এদিকে জেলার আটটি উপজেলাতে খোজ নিয়ে জানা গেছে, কোভিড শুরুর দিকে পাবনা সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল উপজেলা পরিদর্শন করলেও প্রায় দুইমাস যাবত কোন উপজেলা পরিদর্শন করেন নাই। সেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও বেডের অবস্থা এবং চিকিৎসা সেবার ব্যাপারে প্রত্যক্ষ কোন খোজ খরব নেন নাই তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসারগন জটিল সমস্যা নিরসনে তাকে ফোন করলেও কোন দিকনির্দেশনা না দিয়েই ফোন লাইন বিছিন্ন করে দেবার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে করেছে বেশ কয়েজন অফিসার। ফলে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা ব্যবহত হচ্ছে জেলা জুরে। বেড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. মিলন নিজেই জানেনা তার উপজেলাতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কত। কোভিড নিয়নত্রন ও প্রতিরোধ কমিটির অব্যবস্থার কারনে সোমবার (১৫ জুন) মাত্র ২৬ জন মানুষকে পরীক্ষা করে ০৮ জনই কোভিড আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত হয়েছে।
আরো জানা গেছে, জেলাতে ১৭টি ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। সাথে রয়েছে ২৫৬ টি কমিউনিটি সেন্টার। গ্রামের অসহায় মানুষ প্রথমে এ সব সেন্টারে আসে সেবা নেবার জন্য। এসব উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি সেন্টারে কোন টেকনিশিয়ান না থাকায় কোভিড রোগীদের নমুনা সংগ্রহ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোভিড আক্রান্ত রোগীরা এ সব সেন্টারে এসে সুস্থ্যদেরকে সংক্রমিত করছে। এ সব সেন্টারের সিংহভাগ দীর্ঘদিন পরিদর্শন করেন নাই সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল। এবং কোভিড রোগীদের ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়নি সেন্টারে নিয়োজিত কর্মচারীদের।
প্রাথমিকভাবে পাবনার বাইবাস রোডে কমিউনিটি একটি বেসরকারী হাসপাতালে একশ’ শয্যার একটি কোভিড হাসপাতাল ভাড়া নিলেও পরে সেটা ছেড়ে দিয়ে পাবনা ২৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবুল হোসেন জানান, জোন ভিত্তিক একশ’ শয্যা কোভিড রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ ওয়ার্ডে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রন ও প্রতিরিােধ কমিটির সদস্য সচিব পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল মুঠো ফোনে জানান, কোভিড নিয়ন্ত্রনে স্যাম্পুল কালেকশনসহ লোকজনকে বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। অথচ কোন পরামর্শ সেল খোলা হয়নি জেলাতে। তার সর্ম্পকে বিভিন্ন অভিােগের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলার আহ্বান জানান। তার অফিসে গিয়ে দেখা যায় তিনি তার কামরা তালাবদ্ধ করে ভেতরে রয়েছে। তার সাথে কথা বলতে চাওয়া হলে তিনি কথা বলতে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন।

%d bloggers like this: