July 4, 2020

পাবনায় অবসর প্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মকর্তাকে স্বপরিবারে হত্যা

পাবনার মধ্য শহরের একটি বাড়ী থেকে অবস্রপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা সহ একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের শ্বাসরোধে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। তবে, তাদের কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকার ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সংলগ্ন পুরনো একটি দ্বিতল বাড়ির নিচ তলায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাঙ্কের অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার (৬০) তার স্ত্রী সুম্মা খাতুন (৫২) ও মেয়ে সানজিদা (১৪) কে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার দুপরে বাড়িটি থেকে পচা দুর্গন্ধ পেয়ে খোঁজ নিতে আসেন প্রতিবেশীরা। অনেক ডাকাডাকির পরেও দীর্ঘক্ষণ কারো সাড়া শব্দ না পেয়ে, পুলিশে খবর দিলে বাড়িটির তালা ভেঙে আব্দুল জব্বারসহ তার পরিবারের তিন সদস্যের উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে ছুটে আসেন স্বজনরাও।
প্রতিবেশীরা জানান, আব্দুল জব্বারের সাথে স্থানীয় কারো বিরোধ ছিলো না। পাবনা কালেক্টরেট স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী দত্তক নেয়া একমাত্র মেয়েকে নিয়ে নির্ঝঞ্চাট পরিবার। মধ্য শহরে তাদেরকে এমন নৃশংস হত্যায় হতভম্ভ হয়ে পড়েছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
নিহত আব্দুল জব্বারের ভাই মনিরুজ্জামান জানান, শুক্রবার আব্দুল জব্বারের একজন প্রতিবেশী তাকে ফোন করে বাড়িটিতে কারো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান। খবর পেয়ে তিনি আসার পরেও কেউ দরজা না খোলায় পাশের জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে ভাবী সুম্মা খাতুনকে বিছানায় রক্তাক্ত পড়ে থাকতে দেখেন। বাড়ির আলমারি ভাঙা পুরো বাড়িতেও ল-ভন্ড অবস্থার কথাও জানান তিনি।
মনিরুজ্জামান আরো বলেন, আমার ভাই খুবই নিরীহ প্রকৃতির। তার সাথে কারো কখনো শত্রুতা ছিল না। তাকে স্বপরিবারে এভাবে মরতে হবে কোনদিন কল্পনাও করিনি। হত্যার পর ল-ভ- বাড়িতে খুনীরা লুটপাটও চালিয়েছে বলে ধারণা প্রত্যক্ষদর্শীদের। মধ্য শহরের প্রধান সড়কের পাশের একটি বাড়িতে এমন ঘটনায় নিরপত্তাহীনতায় ভুগছেন প্রতিবেশীরা।
আব্দুল জব্বারের প্রতিবেশী ইমন হোসেন জানান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় খুনীরা নির্বিঘেœ হত্যাকান্ড চালিয়ে পালিয়ে গেছে, তারা কতটা দুঃসাহসী ভাবতেই অবাক লাগছে। আমরা প্রচন্ড নিরপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে দোষীদের শাস্তির দাবীও জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর পুলিশ সুপারসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক সুরতহালে পুলিশের ধারণা, নিহতদের শ্বাসরোধে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ি থেকে হত্যাকান্ডের আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশের ফরেনসিক বিভাগও।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ^াস জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনা তদন্তে পুলিশের সকল ইউনিট মাঠে নেমেছে। আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। এটি নিছক ডাকাতির কারণে হত্যাকান্ড নয়। তবে, তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি। হত্যাকান্ডের ঘটনায় পাবনা সদর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: