July 6, 2020

করোনা মহামারী , কৌশলগত উদ্যোগেই প্রতিরোধ সম্ভব

ডাঃমোঃ হাসান ইমাম

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন, যার ফলে এখনো বাংলাদেশকে সংক্রমণের ৪র্থ ধাপের মারাত্নক ঝুকি থেকে বের করে আনার একটা শেষ সুযোগ আছে। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও দপ্তরের সমন্বয়হীনতা, জনগণের অসচেতনতা, গার্মেন্টস, ইফতার বাজার, শপিংমল ও সব ধরনের দোকান খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করায় উদ্যোগগুলি বাস্তবায়ন হচ্ছে না এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনগনের ত্যাগ স্বীকার করে ৪০ দিন ঘরে থাকার সুফলটাও বৃথা হতে যাচ্ছে। দেশ আজ মারাত্নক ঝুকির মধ্যে পরে গেছে। আমরা যদি সংক্রমণের ৪র্থ ধাপের মারাত্নক ঝুকি থেকে বাচতে চাই তাহলে নিচের (১ – ৯ নং) প্রস্তাবনাগুলি আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে এবং অন্যান্য প্রস্তাবনাগুলি জরুরী ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশকে কিছু দিনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের মহামারী থেকে মুক্ত করার সম্ভাবনা এখনো আছে।
বাংলাদেশে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত অর্থাৎ ৫৮ দিনে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০,৯২৯, নতুন আক্রান্ত – ৭৮৬, মোট মৃত্যু- ১৮৩ এবং ৫৮ দিনে বাংলাদেশে আঠারো কোটি মানুষের মধ্যে ৯২,৭২২ টি টেষ্ট করা হয়েছে। পর্যাপ্ত টেষ্ট না করলে রোগীর সঠিক সংখ্যা জানা এবং আক্রান্তদের দ্রুত পৃথক করা সম্ভব নয়। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় মোট আক্রান্ত- ৭৭১, নতুন আক্রান্ত – ২০, মোট মৃত্যু- ৯, ভিয়েতনামে মোট আক্রান্ত – ২৭১, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ০, তাইওয়ানে মোট আক্রান্ত – ৪৩৮, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ৬, মিয়ানমারে মোট আক্রান্ত -১৬১, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ৬, হংকংয়ে মোট আক্রান্ত – ১০৪১, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ৪, দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট আক্রান্ত – ১০,৮০৪, নতুন আক্রান্ত – ৩, মোট মৃত্যু- ২৫৪, মালোয়েশিয়া মোট আক্রান্ত- ৬৩৮৩, নতুন আক্রান্ত- ৩০, মোট মৃত্যু- ১০৬, থাইল্যান্ডে মোট আক্রান্ত – ২৯৮৮, নতুন আক্রান্ত- ১, মোট মৃত্যু- ৫৪, নিউজিল্যান্ডে মোট আক্রান্ত – ১৪৮৬, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ২০, নরওয়ে মোট আক্রান্ত- ৭৯২৪, নতুন আক্রান্ত- ২৪, মোট মৃত্যু- ৯৬, কিউবায় মোট আক্রান্ত – ১৬৮৫, নতুন আক্রান্ত – ১৭, মোট মৃত্যু- ৬৯, ভুটানে মোট আক্রান্ত – ৭, নতুন আক্রান্ত- ০, মোট মৃত্যু- ০, নেপালে মোট আক্রান্ত – ৮২, নতুন আক্রান্ত-৭, মোট মৃত্যু- ০, এসকল দেশের মধ্যে ৫ মে, ২০২০ তারিখে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কিছু দেশে- ০, কিছু দেশে ১ থেকে ৩০ এর মধ্যে এবং এসকল দেশ লক্ষ লক্ষ টেষ্ট করেছে। এই দেশ গুলির ৫৮ দিনের টেষ্টের সংখ্যা, রোগীর সংখ্যা, মৃত্যুর সংখ্যা ও প্রতিরোধকমূলক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে আমরা আশা করি সফল হবো। চীন, দক্ষিন কোরিয়াসহ যে সকল দেশ করোনা ভাইরাস ভাল ভাবে প্রতিরোধ করেছে সে সকল দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে উন্নত চিকিৎসা প্রদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। প্রতিদিন কমপক্ষে দশ হাজার সংখ্যক টেষ্ট করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করা, উপসর্গ থাকলেই টেষ্ট করা, টেষ্ট করাতে ভোগান্তি কমানো, টেষ্ট সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোবাইল ফোন ট্রেকিং এর মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং বের করা, কোভিড হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা, লকডাউন/ বাসায় থাকা শতভাগ কার্যকরী করা, সক্ষম ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ও অক্ষমদের বিনামূল্যে সকলের ঘরে খাবার পৌছে দেওয়া এবং বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করতে পারলে মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে আশা করি ।

১। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় দূর্যোগ সংক্রান্ত কাউন্সিল জরুরী ভিত্তিতে গঠন। (যৌক্তিকতাঃ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে অন্য মন্ত্রনালয় গুলি সমন্বয় করছে না।)
২। ঢাকার যে সকল এলাকা এবং দেশের যে সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে তাদের পরিবার এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সকল ব্যক্তিকে আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ জনবল নিয়োগ করে নূন্যতম প্রতিদিন দশ হাজার করোনা টেষ্ট করতে হবে এবং যাদের টেষ্ট পজিটিভ হবে তাদেরকে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে এবং সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে। হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে চাইলে বাসায় সে রকম ব্যবস্থা আছে কিনা সেটা আগে নিশ্চিত হতে হবে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ অথবা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণে অথবা মোবাইল ফোন ট্রেকিং এর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। (যৌক্তিকতাঃ জনগন নিজ বাড়িতে আইসোলেশন/ কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে পারে না, সকলের বাসায় পৃথক একাধিক টয়লেট ও পর্যাপ্ত রুম নাই বরং প্রতিবেশী ও পরিবারের অন্যদের আক্রান্ত করে ফেলে।
সংক্রমিত ৬৩টি জেলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে করোনা টেষ্টের সেন্টার করতে হবে অথবা বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার গুলির টেষ্টের সক্ষমতা বারিয়ে পরীক্ষা করা এবং হাসপাতালের টেকনোলজিষ্ট ও কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচপিদের মাধ্যমে সংক্রমিত এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে দ্রুত স্যাম্পল সংগ্রহ করতে হবে)।
৩। বাংলাদেশে যাদের নূন্যতম করোনার উপসর্গ আছে এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরন করেছে, সর্বচ্চো জনবল নিয়োগ করে তাদের সকলের আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে করোনা টেষ্ট করতে হবে এবং রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তাদের সবাইকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন/ কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। দক্ষিন কোরিয়ার মত পিপিই ছাড়া করোনা টেষ্ট বুথ বানিয়ে স্যাম্পল সংগ্রহ করা যায় অথবা মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচপিদের মাধ্যমে স্যাম্পল সংগ্রহ করতে হবে, এতে সমগ্র দেশের যে কোন স্থানে দ্রুত সময়ে স্যাম্পল সংগ্রহ করা যাবে। যাদের স্যাম্পল সংগ্রহের অভিজ্ঞতা নেই তাদেরকে দ্রুত অনলাইন /ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।
৪। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এলাকা এবং জেলা গুলিতে সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন করা হলেও জনগনের অসচেতনতা ও গার্মেন্টস, ইফতার বাজার, শপিংমল খোলার জন্য অনেকেই লকডাউন সঠিকভাবে মানছে না, লকডাউন শতভাগ কার্যকরী করতে হলে এখনই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আরেকটি বার চেষ্টা করে সবাইকে ৭ থেকে ১০ দিন ঘরে রাখতে পারলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কাউকে প্রবেশ করতে না দেয়া। ধান কাটার জন্য এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যে সকল শ্রমিক যাবে তাদেরকে প্রশাসনের সহায়তায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্দিষ্ট যানবাহনে পাঠাতে হবে এবং প্রত্যেকের করোনা টেষ্ট করে কাজে নামাতে হবে। গার্মেন্টস এখনই চালু করার অনুমতি না দিলে ভালো হতো, এটা চালু করলে আরেকটা মহামারী হতে পারে। যদি একান্তই চালু করতে হয় তাহলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা প্রনয়ণ করে সীমিত সংখ্যক গার্মেন্টস চালু করা যেতে পারে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনে নিজস্ব যানবাহনে কর্মস্থলে আসা যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে এবং সকল কর্মীর করোনা টেষ্ট করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে কাজে নিয়োজিত করতে হবে। প্রশাসনের মাধ্যমে গার্মেন্টস গুলি নিয়মিত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। ইফতার বিক্রয়, শপিংমল ও সব ধরনের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া সঠিক হয়নি বলে মনে হয়। কারন ইফতার বাজার ও শপিংমলে শত শত মানুষ ভির করবে। গার্মেন্টস, ইফতার বাজার ও শপিংমল করোনা মহামারীর জন্য একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র।
বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দুইটি টীম গঠন করে একটি টীমকে শুধু প্রতিরোধক মূলক কাজে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন এবং অন্য টীমকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার কাজে হাসপাতাল গুলোতে দক্ষ জনবল সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের নিশ্চিত করন, চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
৫। যাদের সক্ষমতা আছে শুধু তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে এবং সকল গরীব ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ঘরে ঘরে বিনামূল্যে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি,পুলিশ, র‍্যাব,আনসার, জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে খাবার পৌছে দিতে হবে। (যৌক্তিকতাঃ তাহলে খাবারের জন্য অথবা অন্য কোনো অজুহাতে ঘর থেকে কেউ বের হবে না এবং না খেয়ে কেউ কষ্ট পাবে না। ঘরে খাবার না থাকলে শত চেষ্টা করলেও মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় ঘর থেকে বের হবে। চীন, দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান,ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, ভারতের কেরেলা এই পদ্ধতি অবলম্বন করে সফল হয়েছে।)
৬। বাংলাদেশে প্রচুর সংখ্যক স্কুল-কলেজ, এক্সপ্রেস ট্রেন, ষ্টীমার, উন্নত মানের হোটেল, আশুলিয়ার ইজতেমা মাঠ, স্টেডিয়াম, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের বেড বর্তমানে অব্যবহিত আছে। এগুলিকে অস্থায়ী করোনা হাসপাতাল অথবা আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার ব্যবস্থা গ্রহন। (যৌক্তিকতাঃ এ ধরনের সেন্টারে করোনা আক্রান্ত ও সন্দেহ ভাজন রোগী রাখলে সংক্রমন নিয়ন্ত্রন করা যাবে। বাসায় রেখে আইসোলেশন/কোয়ারেন্টাইন শতভাগ কার্যকর করা সম্ভব না, কারন সকলের বাসায় পৃথক একাধিক টয়লেট ও পর্যাপ্ত রুম নাই।)
৭। দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতিদিন রাস্তায় জীবানু নাশক স্প্রে করতে হবে। বিশেষ করে যেসকল বিভাগ ও জেলা সংক্রমিত। সকল যানবাহন বাহির থেকে এসে বাসায়/অফিসে প্রবেশের পূর্বেই গেটের বাহিরে চাকা সহ যানবাহন জীবানু নাশক দিয়ে স্প্রে করতে হবে এবং ঘরের বাহিরে যারা যাবেন সবাই বাসার মেইন গেটের বাহিরে জুতা/ স্যান্ডেল স্প্রে করে জুতা ঘরের বাহিরে রাখতে হবে। (যৌক্তিকতাঃ যানবাহনের চাকা ও জুতার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ফ্ল্যাট/ বাসায় সংক্রমিত করে)
৮। ১লা মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে যতজন ব্যাক্তি বিদেশ থেকে বাংলাদেশে বিমান বন্দর, স্থল বন্দর, নৌ বন্দর, সমুদ্র বন্দর, রেলপথ দিয়ে প্রবেশ করেছে তাদের সকলের এবং তাদের পরিবারের করোনা টেষ্ট করতে হবে।(যাদের টেষ্ট করা হয়েছে এবং ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সুস্থ আছে তারা ব্যতীত) অথবা বিদেশ ফেরত সকলের ঘরে ঘরে গিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। যাদের করোনা টেষ্ট পজিটিভ হবে তাদের সকলকে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নিতে হবে এবং করোনা রোগীর সংস্পর্শে যারা ছিল তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নিতে হবে।(যৌক্তিকতাঃ শুধু মাত্র শরীরের তাপমাত্রা মেপে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা যায় না। বিমানবন্দর সহ সকল বন্দরে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রার মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা হয়েছিল। তাদের সকলের স্যাম্পল সংগ্রহ করা অথবা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা প্রয়োজন ছিলো)।
৯। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সকল তথ্য ডাটাবেইজ তৈরী করে তাদের যাতায়াত মোবাইল ফোন ট্রেকিং এর মাধ্যমে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং বের করে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত টেষ্ট করে আইসোলেশন করা। এ বিষয়ে আইসিটি মন্ত্রনালয় উদ্দোগ নিতে পারে। (যৌক্তিকতাঃ দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং এর মাধ্যমে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে)।
১০। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নির্দেশিত ৩১ দফা কঠোর ভাবে পালনের ব্যবস্থা করন।
১১।শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে এবং আক্রান্তের সম্ভবনাও কম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং করোনার ভাইরাসের প্রতিরোধক হিসাবে প্রতিটি মানুষকে আদা,দারচিনি,লবংগ, যষ্টিমধু, কালজিরা, গোল মরিচ, হলুদ, ও তুলসীপাতা জ্বাল দিয়ে চায়ের মতো সেবন, প্রতি বেলায় কুসুম গরম পানি সেবন ও গার্গেল করা এবং ভিটামিন সি অথবা ভিটামিন সি যুক্ত ফল দিনে দুই বার খাবার উপদেশ প্রদান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি প্রফেসর ডাঃ মোঃ শহিদুল্লাহ সিকদার ও তার চিকিৎসক কন্যা, মোঃ ফেরদৌস ও চৌধুরী ফারহানা দম্পতি দুজনেই ফার্মাসিস্ট এবং নাইজেরিয়ার গভর্নর সেয়ি মাকিন্দে সহ আক্রান্ত অনেকে এই ব্যবস্থা গ্রহন করে সুস্থ হয়েছেন। (এ সকল উপাদান জেলা প্রশাসক, ইউএনও, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সকল ঘরে পৌছে দেওয়া সম্ভব)।
১২। আগামী এক মাসের মধ্যে সকল সক্ষমতা সম্পন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ১০০০ (এক হাজার) আইসিইউ বেড ও সরকারের পক্ষ থেকে ১০০০(এক হাজার) আইসিইউ বেড ভেন্টিলেটর সহ প্রস্তুত করতে হবে।(যৌক্তিকতাঃ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১০- ১৫% রোগীর আইসিইউ সাপোর্ট লাগে, আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া গেলে বেশির ভাগ রোগীকে বাচানো যাবে।)
১৩। বাংলাদেশে বেশ কয়েক জন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, নবীন বিঙানী, সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশের মেডিকেল যন্ত্রপাতি প্রস্তুত কারক প্রতিষ্ঠান মিনি ভেন্টিলেটর তৈরী করেছে, যদি এগুলো কার্যকর হয় তবে তাদের কাছ থেকে সল্প মুল্যে দ্রুত সময়ে মিনি ভেন্টিলেটর গুলি সংগ্রহ করতে হবে।
১৪। সকল উপজেলা, জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীর পৃথক বিভাগ খুলে চিকিৎসা প্রদান এবং করোনা রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য পৃথক রাস্তা প্রনয়ণ ও প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা রাখা। (যৌক্তিকতাঃ করোনায় আক্রান্ত শ্বাস কষ্টের রোগীদের সঠিক সময় অক্সিজেন দিতে পারলে জীবন বাচানো সম্ভব)।
১৫। পিপিই সহ সুরক্ষা সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমানে সংগ্রহে রাখতে হবে। নাহলে আমেরিকা ও ইতালির মত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে পরতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা প্রদান, শুন্য পদে অথবা প্রকল্পের মাধ্যমে দ্রুত মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট নিয়োগ ও টেষ্টের জন্য নিয়োজিত করা, অবসর প্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের খণ্ডকালীন নিয়োগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য রিজার্ভ রাখা।

ডাঃমোঃ হাসান ইমাম
এমডি (মেডিসিন), নিউ দিল্লী, স্পেশাল ট্রেইনিং ইন টিএম (চীন, থাইল্যান্ড, কোরিয়া)
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (এএমসি)
এস.পি. হাসপাতাল, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: