July 3, 2020

রণেশ মৈত্র’র কলাম : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকটের অন্তরালে

প্রায় ১৩ লক্ষ রোহিঙ্গা মিয়ারমারের সেনাবাহিনীর নির্মম অত্যাচারে ও ভয়াবহ সাম্প্রতিক নির্য্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিল দু’তিন লাখ। কিন্তু আজও তাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন সম্ভবপর হয়ে উঠলো না। বিগত ২২ আগষ্ট তাঁদের মধ্যে অতি ক্ষুদ্রাংশ, মাত্র সাড়ে তিন হাজারের মত, প্রত্যাবাসন হবে বলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকার একমত হওয়াতে এবং তাদের তালিকা মিয়ানমার সরকার সঠিক বলে অনুমোদন করায় খুবই আশা করা হয়েছিল হয়তো বাব অবশেষে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে প্রত্যাবাসন অধিকতর সংখ্যায় চলতে থাকবে।
কিন্তু তা হলো না। রোহিঙ্গারা কেউই গেলেন না। বিপদে আশ্রয় দানকারী বাংলাদেশ সরকারের সকল প্রচেষ্টা, সকল অনুরোধ উপরোধ নির্বিবাদে ভেস্তে গেল। বহাল ভবিয়তে তাঁরা থেকে গেলেন-তাঁদের ইচ্ছা বা জিদই জয়যুক্ত হলো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, প্রত্যাবাসনের জন্যে কাউকে না পাওয়াটা রোহিঙ্গাদের) দু:খজনক। তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেল। তিনি আরও বলেছেন, আগামীতে কাউকে পাওয়া গেলে তাদের পাঠানো হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে থাকার জন্য যারা প্ররোচনা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের সুযোগ-সুবিধাও কমিয়ে দেওয়া হবে যাতে তারা মায়ানমারে ফিরে যেতে রাজী হয়।
আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম আজ (২২ আগষ্ট) থেকে স্বল্পকারে হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে কিন্তু তা সম্ভব হয় নি। কাউকে ফিরে যেতে রাজী করানো যায় নি। তবে আমরা কিন্তু আশা ছাড়িনি। আমরা এখনও প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আশায় বুক বেঁধে আছি। বিষয়টি অত্যন্ত দু:খজনক। পরবর্তী সময়ে কি করবো- আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাব। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের থেকে যাওয়ার জন্য অনেকেই প্ররোচনা দিচ্ছেন। লিফলেট বিতরণ করছেন। ইংরেজীতে প্ল্যাকার্ড লিখে দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হব্ েরোহিঙ্গাদের আরামের জীবন থেকে আরাম কমানো হবে-যাতে তারা ফিরে যেতে রাজি হয়।
প্রত্যাবাসন শুরু না হলে কী হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরপরও আমরা প্রক্রিয়াটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো। আমরা জোর করে কিছু করবো না। আমরা প্রস্তুত, আমাদের কোন গাফিলতি নেই। আস্থার যে ঘাটতি আছে সেটা দূর করতে মায়ানমারকেই কাজ করতে হবে।
প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম দেখতে মায়ানমার ও চীনের প্রতিনিধিরা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিরিরে রয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মায়ানমারে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া সম্বলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন ও লিফলেট বিতরণ প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, কারা প্ল্যাকার্ড ও লিফলেট করে দিচ্ছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি। তারা বিভিন্ন ডিমান্ড করছে। তাদের ডিমান্ডের কাছে আমরা জিম্মি হতে পারি না। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতিসহ মায়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতি ঘুরে দেখার জন্য একটা কমিশন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে গত বছর ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন শুরুর সব প্রস্তুতি নিয়ে দিনভর অপেক্ষা করার পরও মায়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্তা তৈরী না হওয়ায় ঐ চেষ্টা ভেস্তে যায়। রোহিঙ্গাদের দাবী মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে তাদের নাগরিকত্ব, জমিজমা ও ভিটেমাটির দখল, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এক বছর আগের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর দুই সরকারের উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে তিন হাজার চার শত পঞ্চাশ জনকে রাখাইনের অীধবাসী হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের ফেরত নিতে রাজী হওয়ার কথা গত সপ্তাহে জানায় মায়ানমার এবঙ অত:পর দ্বিতীয় দফায় প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলো।
এ প্রসঙ্গে প্রাচীনতম দৈনিক সংবাদে গত ২৩ আগষ্ট প্রথম পৃষ্টায় “রোহিঙ্গারা কেউ ফিরে যেতে আগ্রহী নন” শীর্ষক তিন কলাম ব্যাপী শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলা হয়।
“সব ধরণের প্রস্তুতি থাকার পরও তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গারা মায়ানমারে ফিরতে রাজী হন নি। তাই প্রত্যাবাসান প্রক্রিয়া শুরু হয় নি। দ্বিতীয় দফায় ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যাবাসন কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আপাতত: স্থগিত করা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, প্রত্যাবাসন না হওয়ার ব্যর্থতা বাংলাদেশের নয়। সমস্যাটি মায়ানমারের নিজস্ব। তাই সমাধানের উদ্যোগও তাদেরকেই নিতে হবে। বাংলাদেশ সরকার এ কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করছে অব্যাহতভাবে। বাংলাদেশের পক্স থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ধূমধূম ট্রানজিট্ ঘাটও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্প, কেরণগুলি ট্রানজিট ক্যাম্প ও নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পসহ সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। রোহিঙ্গাদের বহনের জন্য ৫টি বাস ও তিনটি ট্রাক রাখা হয়। নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুমধুম সীমান্ত জুড়ে বিজিবির পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা। মায়ানমারের বিজিপি ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে রোহিঙ্গাদের বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
এ দিকে মায়ানমারের আভ্যন্তরীন সংকটের কথিত অবনতির ধূয়া তুলে বিবৃতি দিয়েছে()সহ ৬১টি এনজিও । তারা নিরাপদে ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় স্বরণার্থীদের জড়িত করার আহবান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, মায়ানমারে প্রত্যাবাসন বিষয়ে সাম্প্রতিক খবরে সংকিত এবং উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গারাও। তারা নিরাপত্তা নিয়ে আতংকিত। এনজিও গুলো মায়ানমারের পরিস্থিতির অবনতির আশংকা ব্যক্ত করে নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের আহবান জানায়।
অপরদিকে দ্বিতীয় দফা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয়রা দুষছেন ক্যাম্পে তৎপর এনজিওদেরকে। কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি ও কক্সবাজার সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, “প্রত্যাবাসন-বিরোধী যে কোন তৎপরতা শক্ত হাতে দমন করা না হলে প্রত্যাবাসন কখনও সম্ভব নয়।
উদ্বিগ্ন উপজেরা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের লোভী করে তুলেছে। এ কারণে রোহিঙ্গারা সহসাই ফিরতে রাজী হচ্ছে না। তারা যা দাবী করছে সেটা তাদের দেশের নিজস্ব সাংবিধানিক বিষয়। হয়তো সব দাবী এক সঙ্গে পূরণ নাও হতে পারে। এখন তারা এখানে থেকে তাদের সব দাবী পূরণ করতে চায় সেটা কোন দিনও সম্ভব হবে না। আর প্রত্যাবাসানও শুরু করা যাবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা নেতা ‘সংবাদ’কে জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হোক, এটা রোহিঙ্গাদের একটি অংশ চায় না। এই মতের বিদ্রোহী সংগঠনটি প্রত্যাবাসনকে বাধাগ্রস্থ করতে সক্রিয়। অনেক রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় মায়ানমারে ফিরতে রাজী থাকলেও ঐ সব সংগঠনের কারণে শেষ পর্য্যন্ত ফিরতে পারে নি।
রোহিঙ্গা সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন: শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ই ব্লকে চার দফা দাবী তুলে ধরে একটি রোহিঙ্গা সংগঠন। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বাড়ীঘর জমি জমা ফেরত পাবার নিশ্চয়তা চায় তারা। তাদের দাবীগুলি পূরণ না হওয়া পর্য্যন্ত তারা মায়ানমারে ফিরতে রাজী নন বলে জানিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের পক্ষে ঐ দাবি তুলে ধরে আরাকন রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস এন্ড হিউম্যান রাইটসের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সৈয়দ উল্লাহ।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দাবী পূরণ না করে তাড়াতাড়ি করে স্বল্প সংখ্যক রোহিঙ্গা নিয়ে প্রত্যাবাসান করতে মায়ানমার চেষ্টা করছে। আমাদের দাবীগুলো হচ্ছে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, সহায় সম্বল ফেরত ও আই.ভি.পি ক্যাম্পে থাকা এক লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গাদের যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তারপর আমরা স্ব-ইচ্ছায় ফিরতে প্রস্তুত। আমরা নব্বই ভাগ রোহিঙ্গার প্রতিনিধিত্ব করছি। এ সময় ঐ রোহিঙ্গা শিবিরের মসজিদের খতিব মো. ইব্রাহিম, ই ব্লকের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা বদরুল ইসলাম, আয়ান মাঝিসহ শতাধিক রোহিঙ্গার উপস্থিতি ছিল।
শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা নাছির উদ্দিন বলেন, আমাদের জোর করে মায়ানমার ফেরত পাঠালে সেটি অবিচার হতো। আমরা চেয়েছি দাবীগুলো আগে মায়ানমার সরকার মেনে নিলে আমরা স্ব-উদ্যোগে স্বদেশে ফিরে যাব।
এ ছাড়া একই শিবিরের ডি ব্লকের রোহিঙ্গা নারী সমুদা বেগম বলেন প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম আসার পর থেকে আমাদের মাঝে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। গত রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি নি। তবে বাংলাদেশ আমাদের জোর করে ফেরত না পাঠানোর জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, মায়ানমার সরকার পূর্ণ নাগরিকত্ব, ভিটে মাটি ফিরিয়ে না দিলে সেখানে গিয়ে আমাদের বন্দী জীবন কাটাতে হবে। তাই আমাদের নাগরিকত্বসহ দাবীগুলো পূরণের জন্যআন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহবান জানাচ্ছি।
এ দিকে প্রত্যাবাসান না হওয়ায় ভিন্ন মত পোষণ করে টেকনাফের জাদিমুরার ব্যবসয়ী জাফর আলম বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদেরকে মানবিক দৃষ্টি কোন থেকে আশ্রয় দিয়েছিলাম। রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তারা মায়ানমার ফিরে গিয়ে তাদের দাবীগুলো পেশ করতে পারতো কিন্তু এভাবে চললে আর তাদের ফিরে যাওয়ার সম্ভবনা আদৌ দেখছি না।
বস্তুত: এই মুহুর্তে যে পরিস্থিতির মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন পর্ব এসে দাঁড়িয়েছে তাতে নিশ্চিন্তেই বলা যায় সরকারকে নিষয়টির গভীরে যেতে হবে। হালকা ভাবে দেখার অবকাশ আর নেই। আশ্রয় দাতা সরকার ও আশ্রয় দাতা পাহাড়ী সীমান্তে বসবাসকারী জনগণের চিন্তা, চেতনা, চেষ্টা, উদ্যোগ-সব কিছুকে বিদেশের মাটিতে বসে রোহিঙ্গারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারছে-দুদেশের সরকারের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিতে রোহিঙ্গারা সাহসী হলো কেমন করে?
ইতিহাস বলে: প্রথমত: বহুকাল ধরেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছেন, কিন্তু ফেরত যাচ্ছে না। বরং তাঁদের অনেকেই এ দেশে এসে অর্থের বিত্তের প্রলোভন দেখিয়ে এ দেশের মেয়েদেরকে বিয়ে করে অথবা অপরাপর অবৈধ উপায়ে এদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে দেশ বিদেশে ঘুরছে এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যাদি পাচার থেকে শুরু করে মানবপাচারে লিপ্ত হয়ে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক বনে যাচ্ছে।
দুই, এ ধরণের কাজকর্মের মাধ্যমে বহু সংখ্যক রোহিঙ্গা চট্রগাম শহর ও তার পার্বত্য অঞ্চলে বহুতল বিশিষ্ট দালানকোঠা নির্মাণ করে নানাবিধ ব্যবসা বাণিজ্যে লিপ্ত হচ্ছে:
তিন. এ জাতীয় সকল কায্যকলাপ বে-আইনী হওয়া সত্বেও কদাপি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কখনও আইন মোতাবেক কোন অভিযান চালিয়ে অপরাধিদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তির ব্যবস্থা কদাপি করা হয় নি।
চার. কিছু সংখ্যক দুবৃত্ত রোহিঙ্গাদের নেতা নিজে দেশে ফিরতে রোহিঙ্গাদেরকে বাধা দেওয়ার পিছনে করা কাজ করছে এর সন্ধান করলে দেখা বাংলাদেশ বিরোধী জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামী ও বহুদিন যাবত রোহিঙ্গাদের মস্তক ধোলাই করছে- ঐ এলাকায় গোপনে রোহিঙ্গা জঙ্গীদেরকে অস্ত্র প্রশিক্ষণও দিচ্ছে বলে পত্র পত্রিকায় এক সময় খবর বেরিয়েছেন। ঐ অপশক্তিরগুলি তাদের মতলব হাসিলের লক্ষ্যে নানাভাবে তাদেরকে সুকৌশলে সংগঠিতও করছে।
এ ছাড়াও রোহিঙ্গারা এ দেশে এসে স্থানীয় আদি বাসিন্দাদের বিপুল ক্ষতি সাধন করছে। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, পহাড়গুলি ও বনজফল কেটে উজাড় করে ফেলে রান্না বান্না করছে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য দূরিভূত হচ্ছে।
সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল তাদের মেয়েদেরকে বধুদেরকে পরিবার পরিকল্পনার আওতায় এনে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করতে কিন্তু তাতে তারা রাজী হয় নি। উল্টো এ যাবত গত দুই বছর প্রায় এক লক্ষ সন্তান প্রসব করেছে, কয়েক হাজার রয়েছেন অন্তসত্তা। লক্ষ্য জামায়াত হেফাজত কর্মী সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি।
এছাড়া রয়েছে তাৎক্ষণিক লাভের মোহ। আহার, বাসস্থান, শিক্ষা-চিকিৎসা সব কিছু ফ্রি। দেশে ফিরলে তো খে্েট খেতে হবে। সংসার বড় হচ্ছে ব্যয়ও তো বাড়ছে। দেশে যাবার পর সেই হারে বাড়বে।
তাই সব কিছু মিলিয়ে দ্রুত রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা জরুরী এবং সে লক্ষ্যে অবিলম্বে প্রত্যাবাসনে বাধাদানকারী, লিফলেট ব্যানার তৈরীতে লিপ্ত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরী। অপর পক্ষে এনজিও দের যারা মানবাধিকারের নামে প্রত্যাবাসনের বিরোধিতা করছে তাদেরকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়াও প্রয়োজন। মায়ানমার সরকার ও যাতে যথা সম্ভব তাদের দাবীগুলো মেনে নেয় তার উদ্যোগ এবং একই সাথে প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করা সকল পক্ষের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক: রণেশ মৈত্র,সাংবাদিকতায় একুশে পদক প্রাপ্ত।

%d bloggers like this: