July 6, 2020

মন্ত্রিসভায় ঢাকা-দিল্লী যৌথভাবে দেশের ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খনন প্রটোকল অনুমোদন

ঢাকা, ১২ নভেম্বর, ২০১৮ (বাসস): মন্ত্রিসভা দেশে নৌচলাচল সহজ করতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আশুগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ভারতের দইখাওয়া পর্যন্ত ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথ খনন প্রোটোকল অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভার আজ অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাডেনডাম টু দ্য প্রোটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড’ এর খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, সম্প্রতি সাক্ষরিত প্রটোকল অনুযায়ী এই খননের ৮০ শতাংশ ভারত এবং ২০ শতাংশ খরচ বাংলাদেশ সরকার বহন করবে।
তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের যথাক্রমে ৮০ শতাংশ ও ২০ শতাংশ অনুপাতে খরচ বহনের শর্তে আশুগঞ্জ-জকিগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ-দইখাওয়া পর্যন্ত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ৪৭০ কিলোমিটার নদীপথ খনন করা হবে। অর্থাৎ সিলেটের জকিগঞ্জ থেকে আশুগঞ্জ এবং সিরাজগঞ্জ থেকে ভারতের দইখাওয়া পর্যন্ত ৪৭০ কিলোমিটার নদীপথ খনন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, অপরদিকে এই প্রটোকল অনুযায়ী বাংলাদেশের ট্রাক, ট্রাক্টর, ট্রেইলার পণ্য বহন করতে ভারতের অভ্যন্তরে আগরতলা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন প্রোটোকলে বাংলাদেশের পানগাঁও ও ভারতের আসামের ধোবি বন্দরকে পোর্ট অব কল এবং স্থল বন্দর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নো-ম্যান্স এরিয়াতে প্রয়োজনে বিজিবি ও বিএসএফ’র সহযোগিতায় ইমার্জেন্সি সার্ভিস গ্রহণ, ক্রু বা নাবিকদের মরদেহ দেশে আনার সহজীকরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিনের মন্ত্রীসভার বৈঠকে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের নাম পরিবর্তন এবং এই সংস্থার কাজের পরিধি বাড়িয়ে এবং অন্যান্য দেশের মত ট্রেডকেই গুরুত্ব দিয়ে ‘বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৮’এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৯৭৩ সালে একটি রেজুলেশনের মাধ্যমে টেরিফ কমিশন শুরু হয়। ১৯৯২ সালের আইনটি খুব সামান্য সংশোধনীর মাধ্যমে ২০১৮ সালের আইনটি করা হচ্ছে।’ মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, আগে নাম ‘বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন’ থাকলেও নতুন আইন অনুযায়ী নাম পরিবর্তন করে হবে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন’। তিনি বলেন, ‘কারণ হলো পৃথিবীর অনেক দেশেই ট্রেডটাকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ কমিশনের নাম পরিবর্তন করে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশন করা হয়েছে।’ এখন ট্রেডটা অনেক বিস্তৃত জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, ‘এজন্য এখানে ট্রেডটাকে নিয়ে আসা হয়েছে। এ ছাড়া বিজনেস সেক্টরের প্রতিনিধিদের সমর্থন ছিল ট্রেডটা হলে ভাল হয়। এজন্য নামটাকে চেঞ্জ করা হয়েছে।’ আগের আইনের ‘ট্যারিফ কমিশন’এর স্থলে নতুন আইনে ‘ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন’ বসবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজের বিবরণের ক্ষেত্রে আগে চারটি উপধারা ছিল, সেখানে আরও ৯টি উপধারা সংযোজন করা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘নতুন আইনে কাজের পরিধি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আগে এন্টি ডাম্পিং, কাউন্টার ভেইলিং- এগুলো ছিল না। এগুলো যোগ করা হয়েছে। সেইফটি মেজার্সগুলো নতুনভাবে সংযোজন করা হয়েছে। অর্থাৎ উন্নত বিশ্ব ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড যে ট্রেন্ডে যাচ্ছে সেই বিষয়গুলো সংযোজন করা হয়েছে, যেন আমরা তাদের ফেইস করতে পারি।’ নতুন আইনে তদন্তের পদ্ধতি আরেকটু ডিটেইল করে পদ্ধতিটা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বৈঠকের শুরুতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মালিকানা হস্তান্তর করেন। এটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া এবছর ৯ নভেম্বর এই মালিকানা বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে। সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ‘গ্লোবাল এওয়ার্ড ২০১৮’ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। শিশুশ্রম দূরীকরণ এবং শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ সাফল্যের জন্য অষ্ট্রিয়ার সোশ্যাল ডেমোক্রাট পার্টি বাংলাদেশকে এই পুরস্কার প্রদান করে। ভিয়েনা চেম্বারের সহ-সভাপতি গত ৮ নভেম্বর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্ম সংস্থান প্রতিমন্ত্রীর নিকট এই পুরস্কার হস্তান্তর করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: