July 6, 2020

ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর ভিত্তিক ৬টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণে রুশ-ভারত চুক্তি

১৯তম রুশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি গতকাল, শুক্রবার উভয় দেশ নয়াদিল্লীতে নতুন একটি পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অধীনে ভারতে রুশ ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর ভিত্তিক ৬টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপনে সহায়তা করবে রাশিয়া।
রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন- রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভ এবং ভারতের পারমাণবিক শক্তি ডিপার্টমেন্টের সচিব কমলেশ ভিয়াস নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ভারত ছাড়াও তৃতীয় দেশে যৌথ উদ্যোগে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং সম্ভাবনাময় পারমাণবিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অধিকতর সহযোগিতার উল্লেখ রয়েছে এই চুক্তিতে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর আলেক্সি লিখাচোভ তার বক্তব্যে বলেন, “ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতার ব্যাপারে আমরা সন্তুষ্ট। কুদানকুলাম সাইটে ইতোমধ্যে রুশ ডিজাইনকৃত কয়েকটি পারমারণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং অন্যান্য ইউনিটগুলোর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। দ্বিতীয় আর একটি সাইটে আমরা অদূর ভবিষ্যতে কয়েকটি নতুন ইউনিট নির্মাণ কাজের শুভ সূচনা করার আশা রাখছি। নতুন ইউনিটগুলোতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির অধীনে স্থানীয় যন্ত্রপাতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের নির্মাণ সময় ও ব্যয় কমে আসবে। ভারত আমাদের বিশ্বস্ত অংশিদার আমরা যৌথভাবে তৃতীয় দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি এবং ভবিষ্যতে এ জাতীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”
চুক্তিটির ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক রামামুর্তি রাজারমন জানান যে, বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতিকূল সিভিল নিউক্লিয়ার লায়াবিলিটি ইনস্যুরেন্স আইন থাকা সত্ত্বেও রাশিয়াই হচ্ছে একমাত্র দেশ যারা ভারতে সফলভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করতে পেরেছে।
ইতোপূর্বে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় রাশিয়া ভারতের কুদানকুলামে প্রতিটি ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ৬টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণ করছে, যার মধ্যে ২টি থেকে ইতোমধ্যে ভারতের জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কুদানকুলাম প্রকল্পে ভিভিইআর ১০০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহৃত হলেও নতুন প্রকল্পে আরো আধুনিক ও অধিক উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহৃত হবে। এগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা আগেরগুলোর তুলনায় ২০ শতাংশ বেশী।
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর ভিত্তিক ২টি ইউনিট স্থাপনে কাজ করছে রুশ প্রতিষ্ঠান এটমস্ত্রয়এক্সপোর্ট (এএসই), এটি রুশ রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন রসাটমের প্রকৌশল শাখা। একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অধীনে রূপপুর প্রকল্পে নির্মাণ ও স্থাপনা কাজে যুক্ত হবার সুযোগ রয়েছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে তারা শুধুমাত্র নন-ক্রিটিক্যাল ক্যাটাগরির সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে পারবে। জনশক্তি প্রশিক্ষণ প্রদানেও অংশগ্রহণে সুযোগ রয়েছে তাদের।

%d bloggers like this: