July 6, 2020

বেলারুশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বছরে এক কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাস করবে- বেলারুশ গোল টেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞদের অভিমত

বেলারুশে নির্মিয়মান প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট প্রতি বছর ৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন হ্রাসে দেশটিকে সহায়তা করবে। এছাড়াও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যুক্তিসঙ্গত মূল্যে স্থিতিশীল পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
“পারমাণবিক বিদ্যুৎতের উন্নয়ন সম্ভাবনা: পরিবেশগত, অর্থনৈতিক এবং টেকসই উন্নয়নগত দিক” শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেন। ২৩তম বেলারুশ এনার্জি এন্ড ইকোলজি ফোরামের অংশ হিসেবে দেশটির রাজধানী মিন্সকে গতকাল, ০৯ অক্টোবর গোল টেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে দেশটির এনার্জি মন্ত্রণালয়।
এবারের ফোরামের অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে, গ্রীন এবং টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহে এবং বৈশ্বিক এনার্জি ভারসাম্যে পারমাণবিক শক্তির তাৎপর্য।
সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশনের সদস্য দেশগুলো ছাড়াও পারমাণবিক শক্তি বিশ্বে নবাগত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিবৃন্দ গোল টেবিলে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ থেকে ৩জন এনার্জি রিপোর্টারও বেলারুশ ফোরামে অংশগ্রহণ করছেন।
উজবেকিস্তান ও কাজাখস্তানের প্রতিনিধিবৃন্দ জাতীয় পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচী বাস্তবায়নে বেলারুশের অর্জনকে তুলে ধরে মন্তব্য করেন যে এই দেশটির অভিজ্ঞতা পারমাণবিক বিশ্বে নবাগত দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
গোল টেবিলের সঞ্চালক বেলারুশ এনার্জি মন্ত্রণালয়াধীন পারমাণবিক শক্তি বিভাগের উপপরিচালক লিলিয়া দুলিনেটস তার বক্তব্যে বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্জিত অভিজ্ঞতা আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত। এই গোল টেবিল বৈঠকের মাধ্যমে অংশগ্রহকারী দেশগুলোর সঙ্গে আমরা আমাদের সর্বশেষ অভিজ্ঞতা ও অর্জিত সক্ষমতা বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছি।”
রসাটম পূর্ব ইউরোপের উপপরিচালক ভøাদিমির গর্ন জানান যে বর্তমানে বিশ্বের ৩০ দেশে ৪৫৪টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট চালু রয়েছে। ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার এজেন্সির ভবিষ্যৎ বানীতে ২০৫০ সাল নাগাদ পারমাণবিক শক্তির উৎপাদন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এর ফলে ১ গ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইডেরও নির্গমন হবে না।
বেলারুশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার এটমস্ত্রয়এক্সপোর্ট এর বেলারুশ কার্যালয়ের উপপরিচালক ভিক্টর ব্রিখ বলেন, “৩+ প্রজন্মের রুশ নকশা অনুযায়ী বেলারুশ বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে। এই নকশা বর্তমানে নির্ধারিত সকল নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও প্রকল্পটির নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তার ব্যাপারটিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।” তিনি আরোও জানান যে বর্তমানে রাশিয়া কর্তৃক বিশ্বের ১২টি দেশে ৩৬টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বেলারুশে যে দুটি ইউনিট নির্মিত হচ্ছে সেরূপ দুটি ইউনিট বর্তমানে রাশিয়ার নভোভারনেঝ এবং লেনিনগ্রাদ-২ বিদ্যুৎ প্রকল্পে সফলভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
বেলারুশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিট ২০১৯ এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সাল নাগাদ চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের রূপপুরে নির্মিয়মান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে বেলারুশ প্রকল্পের মতোই ৩+ প্রজন্মের ভিভিইআর ১২০০ রিয়্যাক্টর স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

%d bloggers like this: