অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ প্রান্তের শহর এ্যডিলেড যেন গত রবিবার রূপ নিয়েছিল এক টুকরো ছোট ঢাকায়। সুদূর প্রবাসে কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে বন্ধুত্বের চিরচেনা আড্ডায় মেতেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। গত ২১ ডিসেম্বর (রবিবার) এ্যডিলেডের ক্লেমজিক কমিউনিটি হলে অত্যন্ত আনন্দঘন ও অনাড়ম্বর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম, এ্যডিলেড’-এর চতুর্থ মিলনমেলা।
উদ্বোধন ও আনুষ্ঠানিকতা: অনুষ্ঠানের শুরুতে এ্যডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ফেলো এবং ফ্লিন্ডারস বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস-এর সভাপতিত্বে এই মিলনমেলার কার্যক্রম শুরু হয়। সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডুফা (DUFA)-র সাধারণ সম্পাদক জনাব আজমির হোসেন এবং সহ-সভাপতি তারিক আনজাম। এরপরই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয় বিশাল আকৃতির কেক কেটে।
স্মৃতিচারণ ও মিলনমেলা: অনুষ্ঠানে নতুন ও পুরনো প্রজন্মের অ্যালামনাইদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখগুলো একে অপরকে কাছে পেয়ে মেতে ওঠেন স্মৃতিকাতরতায়। জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডঃ আনোয়ারা, রুনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপকবৃন্দ: মেহজাবিন, ডঃ কাইয়ুম, ডঃ নাসরিন, ইমতিয়াজ এবং ডঃ শামসুল খান, তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে এক অনন্য মর্যাদা দান করে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডঃ নাসরিন ইসলাম খান, ডঃ রুবায়েত, নাসরিন বেগম, ইফতেখারুল আলম এবং ডুফা-র ট্রেজারার জনাব জালাল। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী পিএইচডি স্কলার মাহফুজ ও ইমতিয়াজ, আয়েশা সিদ্দিকা, অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সাইদা ইবরাত এবং ইউনিএসএ (UniSA)-এর ডঃ আনিতা ফাইরুজসহ সাইফুর, সানজিদা, জিল্লুর ও ডঃ মাহবুবের উপস্থিতি মিলনমেলাটিকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে। বিপুল সংখ্যক তরুণ ও নবীন অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণ ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ দিক।
সম্মাননা প্রদান: এ বছর সংগঠনের পক্ষ থেকে শিক্ষা, গবেষণা ও কমিউনিটি উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য তিন জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন: ১. প্রফেসর ডঃ কাইয়ুম (ফ্লিন্ডারস বিশ্ববিদ্যালয়) ২. প্রফেসর ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান (ইউনিএসএ) ৩. সোবহান আহাদ, সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও রাত্রীকালীন ভোজ: দ্বিতীয় পর্বে জলিল জাফরিনের তত্ত্বাবধানে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন ডঃ হুমায়রা ও রাবেয়া। সংগীত পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সুখেন, তারিক, ডঃ আনিতা, ববি, সুদীপ্ত, আসলাম ও বিজু। তাদের গাওয়া কালজয়ী গানগুলো উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং প্রবাসের মাটিতে এক টুকরো বাঙালিয়ানা ছড়িয়ে দেয়।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে খাবারের তালিকায় ছিল খাঁটি দেশি স্বাদের খাসির বিরিয়ানি, মুরগীর রোস্ট, ডিম ভুনা, হরেক রকম আচার, চটপটি, কেক ও মিষ্টি। প্রায় ১৫০ জনেরও বেশি সদস্যের এই মিলনমেলাটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং বিদেশের মাটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে আগত সব শিক্ষার্থীদের কার্জন হলের ছবি সম্বলিত একটি করে কফি মগ সংগঠনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়।